Education

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার কৌশল ।পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার উপায়

বইকে বলা হয় মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এখনকার এ সময়ে মানুষের বই পড়ার আগ্রহ ক্রমশ কমে যাচ্ছে। বই পড়ার গতি নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই বেশ হতাশা কাজ করে। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে বই পড়ার ধির গতিও হতে পারে একটি কারণ। কিন্তু একটু কৌশলী হলেই কিন্তু বহুগুণে বাড়িয়ে ফেলা যায় আমাদের বই পড়ার গতিকে। এই পোষ্টের মাধ্যমে শিখে নেওয়া যাক এমন কিছু কৌশল যা আমাদেরকে দ্রুত পড়তে অনেকখানি সাহায্য করবে।

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার কৌশল

অনেকে অভিযোগ করে থাকে তারা ইচ্ছা থাকলেও দীর্ঘক্ষণ পড়তে পারে না। কিছুক্ষণ পড়ার পর হয় মনোযোগ রাখতে পারে না বা শরীর অসহযোগিতা করে আবার দীর্ঘক্ষন পড়াশোনা করলেও পড়া মনে থাকে না। এসব অসুবিধা প্রায়ই পড়তে বসার ভঙ্গি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়, ঘরের পরিবেশ ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। তাই একটু কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার উপায়

একেকজনের পড়ার ধরন একেক রকম। যেভাবে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সেভাবে পড়ুন। তবে যেভাবেই পড়ূন না কেন কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। দীর্ঘক্ষন পড়া এবং পড়ায় মনোযোগী হওয়ার জন্য আমাদের কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কৌশলগুলো নিম্নে দেওয়া হল:-

বসার অভ্যাস ঠিক রাখা

শরীরের কোনো অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমনভাবে বসা পরিহার করতে হবে। কেউ কেউ আছে গালে হাত দিয়ে পড়ে, এতে মুখের এক পাশে চাপ পড়ে, গাল ব্যথা হয়ে যায়, ক্লান্তবোধ হয়, বেশিক্ষণ পড়া যায় না। কেউ কেউ টেবিলের ওপর শরীরের ভর দিয়ে বসে। পড়তে বসার এ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে।

পড়তে বসার আগে হালকা ব্যায়াম করা

পড়তে বসার আগে ১০ মিনিট হাঁটা উচিত। পড়ার টেবিলে বসার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এতে পড়া মনে রাখতে বেশ সুবিধা হয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার পূর্বে ১০ মিনিট হাঁটলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ পরিমাণ বেড়ে যায় । বিজ্ঞানীরা বলেন, মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ ক্ষমতা একটানা ২৫-৩০ মিনিট পরিশ্রমের পর হ্রাস পেতে শুরু করে।

পড়ার মাঝে বিরতি নেওয়া

একটানা ঘন্টার পর ঘন্টা বই নিয়ে পড়ে থাকার অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। তাই পড়ার সময়টুকুকে ছোট ছোট ভাগে আলাদা করে মাঝে মাঝে বিরতি নেয়া দরকার।
প্রত্যেকটা ভাগ শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিট ব্রেক নিবে। এই সময়টুকুতে তোমার যা করতে ভাল লাগে (কিছু খাওয়া, গান শোনা, ফেসবুক দেখা, ছাদে যাওয়া, প্রকৃতি দেখা)। তারপর সতেজ মনে আবার পড়াশোনা করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

বিষয়বস্তুর উপর ধারণা সৃষ্টি বা আকর্ষণ

শুধুমাত্র হুবহু পড়া মুখস্ত করা একটি ভুল পদ্ধতি। সবার উচিত বিষয়বস্তুর উপর সঠিকভাবে জ্ঞান অর্জন করা, সেগুলো আত্মস্থ করা এবং পড়া মনে রাখার জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা।
বুঝে বুঝে পড়ার একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে একই টপিক বিভিন্ন সোর্স থেকে পড়া। শুধুমাত্র একটি বই থেকে পড়তে গেলে পড়ায় আকর্ষণ সৃষ্টি হবে না তাই বিভিন্ন বই ও সোর্স ব্যবহার করে করতে হবে। সুতরাং সম্ভাব্য সবরকম সোর্স থেকে শেখার চেষ্টা করো। যেমন বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করো, বিভিন্ন লেখকের বই থেকে পড়ো, বড় ভাই/আপুদের সাহায্য নাও বা ইন্টারনেটে একটু খুঁজলেই চমৎকার সব শিক্ষামূলক সাইট পেয়ে যাবে তোমার টপিকের উপর।

শিখা বিষয়টি অন্যকে শিখানো

আইনস্টাইন বলেন, “একটা বিষয় তোমার পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত হবে তখনই, যখন বিষয়টি তুমি কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারবে।” যখন যেটুকু পড়বে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়বে এবং আত্মস্থ করবে, যাতে তুমি যে বিষয়টি পড়লে তা অন্যকে সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে পড়া বিষয়গুলো নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারো, একে অপরকে বুঝিয়ে দিতে পারো। মনোযোগী হয়ে পড়লে সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকতে হয় না। আর সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকলেও পড়াশোনা হয় না । তাই সময়ের চিন্তা না করে কতটুকু মনোযোগী হয়ে পড়ছো সেটুকু বেশি লক্ষণীয়।যখন পড়তে বসবে, তখন সম্পুর্ণ মনোযোগ থাকবে বইয়ের পাতায়। মনোযোগ বিঘ্ন করার মত যা কিছু আছে, সবকিছু দূরে সরিয়ে রাখবে এই সময়টুকুতে। অল্প সময় পড়বে, কিন্তু ১১০% মনোযোগের সাথে পড়বে।

রুটিন তৈরি করা

অনেকেই মনে করে যে গত বছর যাইহোক হয়েছে, এ বছর খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করব এবং ভালো ফল অর্জন করব। কিন্তু তারা কোন বিষয়ে পড়বে? কিভাবে পড়বে? কতক্ষণ পড়বে? এরকম ধারনা ছাড়াই এলোমেলো ভাবে পড়তে থাকে এতে ফলাফল ভাল হয় না । তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর উচিত একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য রুটিন তৈরি করা। দিনে কয় ঘন্টা পড়বে, কোন দিন কোন কোন সাবজেক্ট পড়বে, কখন কোন সাবজেক্ট পড়বে, একটি সাবজেক্ট কতক্ষণ পর্যন্ত পড়বে। এভাবে রুটিন করলে ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব। রুটিনের মধ্যে অবশ্যই বিরতি ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। মনে রাখবে তোমার সাফল্য ব্যর্থতার দায়ভার তোমার নিজের হাতেই।

পড়ার বিষয়বস্তুর উপর আকর্ষণ সৃষ্টি করা

একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, পড়াকে মনে রাখার জন্য পড়ার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে হবে এবং পড়াকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। এ জন্য ছোট ছোট গল্প আকারে বা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে কিছু কিছু উদাহরণ সেট করে পড়তে হবে। তাহলে তা দীর্ঘ সময় মনে থাকবে, পরীক্ষার খাতায় ভালোভাবে লিখতে পারবে এবং অন্যকে বুঝাতে পারবে। শুধুমাত্র হুবহু মুখস্ত করা যাবে না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন রঙের কালি দিয়ে আন্ডারলাইন করে পড়তে হবে।

বই সাথে রাখতে হবে

স্কুল-কলেজ হোক বা টিউটর হোম হোক সবসময় বই সাথে রাখতে হবে অন্যের বই নির্ভর হওয়া যাবে না কারণ নিজের বই থাকলে অনেক সময় বিষয়ের ওপর আন্ডার লাইন করা যায় সাইটে কিছু বিষয় নোট করা যায় নিজের বই না থাকলে অন্যের বউ সবকিছু লাগানো যায় না তাছাড়া অনেক সময় না পেলে পড়ার প্রতি মনোযোগ থাকে না

লেকচার সংগ্রহ করতে হবে

ক্লাসে শিক্ষকগণ যে লেকচার দিবেন তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কিওয়ার্ডে তা খাতায় সংগ্রহ করতে হবে । পরবর্তীতে বাসায় এসে তা বারে বারে পড়তে হবে। লেকচার সংগ্রহ না করে শুধু শুনলেই হবে না কারণ পরবর্তীতে তা মনে থাকবে না । তাই ভালো রেজাল্ট করার জন্য প্রতিটি ক্লাসের লেকচার সংগ্রহে রাখতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মুখস্ত করুন

যদিও পড়ার ক্ষেত্রে মুখস্থ বিদ্যা কে গুরুত্ব কম দিতে হবে, তারপরও কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো মুখস্ত করতে হবে শুধু বুঝলে হবে না। যেমন:-
১.টাইটেল বা নাম,
২. বানান
৩. গুরুত্বপূর্ণ সাল
৪. সংজ্ঞা
৫. ঐতিহাসিক ঘটনা

নিজের পড়া নিজেই শোনা

পড়ার সময় এমনভাবে পড়ুন, যেন আপনি কি পড়ছেন তা আপনি শুনতে পারেন এবং বুঝতে পারেন। জোরে জোরে পড়া কিন্তু পড়া মনে রাখার একটি চমৎকার কৌশল।মনে মনে পড়লে, পড়া শোনা যায় না সে ক্ষেত্রে পড়া মনে রাখতে পারা যায়না। তাই জোরে পড়ুন এবং নিজের পড়া নিজে শুনুন।

গুছিয়ে রাখা

সর্বদা পড়াশোনার সামগ্রী গুছিয়ে রাখুন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। পড়াশোনার সামগ্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গোছানো থাকলে পড়তে ভালো লাগবে। তাছাড়া পরীক্ষার আগে সবকিছু ভালোভাবে গুছিয়ে রাখবেন যাতে কোনো কিছু নিতে ভুলে না যান।

রিভিশন, রিভিশন এবং রিভিশন

প্রত্যেকটি পড়া মাঝে মাঝে রিভিশন দিবেন। বারে বারে রিভিশন দিলে পড়া মনের মধ্যে থাকবে এবং সহজে ভুলে যাবেন না। তাই একবার পড়েই রেখে দিবেন না বারেবারে রিভিশন দেবে না।

গ্রুপ স্টাডি করা

বন্ধুবান্ধব একসাথে থাকলে যেমন আড্ডাবাজি হয়, তেমনি একসাথে আলোচনা করে পড়াশোনা করলে অনেক নতুন নতুন বিষয় শেখা যায় এবং তা দীর্ঘদিন মনে থাকে। তাই একঘেয়েমি ভাব কাটাতে মাঝে মাঝে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আলোচনা করে পড়াশোনা করা উচিত । এতে এক ঘেয়েমি কেটে যায় ও পড়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।

 

পড়াশোনায় মনোযোগ আনার ইসলামিক উপায়
 
পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়ার উপায়
 
মনোযোগ বৃদ্ধির ঔষধ
 
বেশি সময় পড়ার উপায়
 
সারাদিন পড়ার উপায়
 
পড়াশোনায় মনোযোগ আনার দোয়া
 
পড়াশোনায় মন বসানোর ৫টি উপায়
 
পড়াশোনা করার নিয়ম

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button