Education

পড়াশোনার রুটিন তৈরির সঠিক নিয়ম । রুটিন বানানোর সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিৎ দেখে নিন

পড়াশোনার করার রুটিন বলতে কি বুঝায়? পড়াশোনা করার জন্য সময় ও সাবজেক্ট নির্দিষ্ট করে লিপিবদ্ধ করায়রুটিন । প্রতিদিন কোন কোন সময় কোন কোন বিষয়গুলো পড়বে বা কোন সময়ে কোন বিষয়গুলো পড়তে হবে সেগুলো পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করে নেওয়াটাই হচ্ছে পড়াশোনা করার রুটিন।
প্রত্যেকটা ভালো ছাত্র ছাত্রী আর খারাপ ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে, সেটা হলো নিয়মিত এবং অনিয়মিত।  যারা ক্লাসের  ভালো ছাত্র/ ছাত্রী তারা অবশ্যই নিয়মিত এবং মনোযোগী। আর অন্যদিকে যারা খারাপ ছাত্র/ছাত্রী তারা অনিয়মিত, একদিন স্কুলে গেলে অন্য দিনে যায়না। যারা ভালো ফলাফল করতে চায় তারা সর্বদা নিয়মিত এবং রুটিন মাফিক পড়াশোনা করে।

রুটিন তৈরির সঠিক নিয়ম

  একজন ভাল স্টুডেন্ট হতে চাইলে পড়ার রুটিন তৈরি করে নিতে হবে। কারণ একজন ভালো ছাত্র/ ছাত্রীর প্রথম বৈশিষ্ট্য  রুটিন মাফিক পড়ালেখা করা। খুব গুরুত্ব দিয়ে রুটিন তৈরি করে সে অনুযায়ী যদি নিয়মিত পড়াশোনা করা হয় তবে আশানুরূপ ফল অবশ্যই পাওয়া যাবে এবং প্রত্যেকটি সাবজেক্ট সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।
অনেক সময় দেখা যায় রুটিন তৈরি না করার কারণে আমরা এলোমেলোভাবে পড়তে থাকি, যখন যেটা মনে হয় তখন সেই বিষয়ে পড়ি, কোন কোন  বিষয় আছে যেগুলো আমরা একেবারেই পড়ি না। এক্ষেত্রে যখন পরীক্ষা চলে আসে তখন আমরা হতাশ হয়ে পড়ি, চিন্তা করতে পারিনা কোন কোন সাবজেক্ট কখন  কখন পড়বো  এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি ফল খারাপ হবে এই দুশ্চিন্তায়।  তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চায়লে  রুটিন তৈরি করে নেওয়া টা খুবই জরুরি।

একটি আদর্শ রুটিন তৈরি করতে হলে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:-

সিলেবাস অনুযায়ী সব সাবজেক্টের লিস্ট তৈরি করা:- রুটিন তৈরি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কি কি সাবজেক্ট আছে সেগুলোর একটি লিস্ট তৈরি করা। যাতে কোন সাবজেক্ট রুটিন থেকে বাদ না পড়ে এবং সাবজেক্ট গুলো রুটিনে সাজাতে সুবিধা হয়।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে বসার অভ্যাস করা:- রুটিনে প্রতিদিনের পড়তে বসার সময় নির্দিষ্ট করতে হবে, রুটিনে নির্দিষ্ট করার সময় মত পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। রুটিন অনুযায়ী পড়লে আস্তে আস্তে পড়ার টাইম অভ্যাসে পরিণত হবে।

প্রতিদিন রিভিশন করার সময় নির্ধারণ করা:- রুটিনের মধ্যে রিভিশন করার সময় নির্দিষ্ট ভাবে রাখতে হবে। প্রতিটি সাবজেক্ট পড়া শেষে 20 মিনিট সময় রাখতে হবে রিভিশন করার জন্য। পড়া শেষে রিভিশন  না করলে দ্রুত বিষয়টি ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পড়ার মাঝে ব্রেক রাখা:- রুটিনের মধ্যে মাঝে মাঝে রাখতে হবে। পড়ার মাঝে ব্রেক না থাকলে একঘেয়েমি চলে আসবে, যার ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ হারাবে । তাই একটি সাবজেক্ট শেষ করার পরে 5 মিনিটের জন্য ব্রেক রাখতে হবে এবং তারপরে পরের সাবজেক্ট পড়তে হবে।

কঠিন ও সহজ সাবজেক্ট মিলিয়ে রুটিন করা:- পড়াশুনায় যাতে একঘেয়েমি না আসে তার জন্য রুটিনে সহজ ও কঠিন সাবজেক্ট মিলিয়ে রুটিন করতে হবে। প্রথমে যদি কঠিন সাবজেক্ট পড়া হয় তারপরের  সাবজেক্ট পড়তে হবে সহজ, আবার প্রথমে যদি সহজ সাবজেক্ট পড়া হয় তার পরের সাবজেক্টটি হতে হবে কঠিন।
# সকালে ঘুম থেকে উঠার ও ঘুমাতে যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট রাখা:- রুটিনে সকালে ঘুম থেকে উঠার ও ঘুমাতে যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট ভাবে রাখতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং ঘুমোতে যেতে হবে।

পুরো দিনের কাজের সূচি বানানো :- পড়াশোনার পাশাপাশি সারাদিনের অন্যান্য বিশেষ কাজগুলোর সূচি বানাতে  হবে, যাতে পড়াশোনার কোনো ব্যাঘাত না ঘটে আবার অন্য  কাজগুলোও সুষ্ঠুভাবে করতে পারা যায়। যেমন – ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিনোদন, ঘোরাঘুরি।
রিপোর্ট তৈরি:- রুটিন অনুযায়ী সারাদিন কত  পার্সেন্ট পড়াশোনা হয়েছে তার রিপোর্ট করতে হবে। 100 পার্সেন্ট  পড়াশোনার চেষ্টা করতে হবে তবে কোনভাবেই 60 থেকে 65 পার্সেন্টের নিচে পড়া যাবে না।
রুটিন এর উপকারিতা:- রুটিন তৈরি করে পড়াশোনা করলে ছাত্রছাত্রীরা নিচের সুফলগুলো পারে
১. কম সময়ে ও খুব সহজে একটি বিষয়ের উপর মনোযোগী হতে পারবে।
২. সামাজিক শারীরিক ও অধ্যায়নরত জীবনকে নির্দিষ্টভাবে সময় দিতে পারবে
৩. সর্বদা শান্ত থাকতে পারবে, পড়াশোনা নিয়ে টেনশন কম হবে
৪. সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জ্ঞান বাড়বে
৫. পড়াশোনার উন্নতি লাভ হবে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button