Education

পড়াশোনার উদ্দেশ্য কি? পড়াশোনা কেন করবেন জেনে নিন

আমরা কি শুধুই  চাকরি পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করি ? ভালো ভাবে পড়াশোনা করলে চাকরি হবে এটা নিশ্চিত । কিন্তু  পড়াশোনা করা কেবল চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
কেননা সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে, অন্যদের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে, নিজেকে  উন্নতির উচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা একটি অন্যতম মাধ্যম।

পড়াশোনার উদ্দেশ্য

এছাড়াও আমরা যে সকল বই পড়ি, তা কোন না কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির অভিজ্ঞতার দ্বারাই লেখা। সুতরাং আমরা যখন সেই বিষয়টি পড়ছি, তখন আমাদের অভিজ্ঞতা ও লেখকের অভিজ্ঞতা একত্রিত হয়ে আমরা এক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করি, যা পড়াশোনার মাধ্যমেই সম্ভব। পড়াশোনা করলে আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

পড়াশোনা কেন করবেন

সারাদিনের 24 ঘণ্টার  মধ্যে  আমরা যদি তিন থেকে চার ঘণ্টা একটু মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা  করি তো আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু আমরা জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়তে হবে এটা মাথায় না রেখে, আমরা মনে করি পড়াশোনা করা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য।

তবে আমরা প্রত্যেকেই পড়াশোনা  করি ভিন্ন ভিন্ন কারণে। কেউ পড়াশোনা  করি জ্ঞান অর্জনের জন্য, কেউ পড়াশোনা  করি শুধু ডিগ্রি লাভ করার উদ্দেশ্যে, আবার কেউ ভালো চাকরি পাওয়ার আশায় পড়াশোনা  করি। তবে  পড়াশোনার আসল উদ্দেশ্য কী বা কেন পড়াশোনা করা উচিত তা আমরা এই পোস্টের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবো।

আত্ব উন্নতির জন্য 

বর্তমান অবস্থানের চেয়ে যদি নিজেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই তাহলে পড়াশোনার কোন বিকল্প নেই। নিজের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুন্দর করতে হলে, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা থাকা লাগে।  তাই যথেষ্ট জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অনেক বেশি পড়াশোনা  করাটা খুবই জরুরি।

চিন্তা বা কল্পনা শক্তির বৃদ্ধি ঘটাতে 

পড়াশোনা  আমাদের  চিন্তা ও কল্পনাশক্তির বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে। কিছু জানার মাধ্যমে বা শেখার মাধ্যমে আমরা নতুন কিছু নিয়ে চিন্তা ও  কল্পনা করতে পারি। নতুন নতুন চিন্তা ও কল্পনা আমাদের নতুন দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে।এর মাধ্যমে আমাদের জীবনের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হয়।  আর বিজ্ঞানের এতো নতুন নতুন আবিষ্কার কিন্তু চিন্তা ও কল্পনা শক্তির ফসল। তাই আমাদের প্রচুর পড়াশোনা করা উচিত।

অন্যদের  থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন:-

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর প্রত্যেকটা মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ভিন্ন রকমের। আমরা যদি নানা রকম অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই, তাহলে আমাদের বিভিন্ন ব্যক্তির বই পড়তে হবে বা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মিশতে হবে শিক্ষার জন্য। নিজেকে নানা বিষয়ে অভিজ্ঞ করে তোলার জন্য অন্যদের থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে আর এই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একমাত্র রাস্তা হল বেশি বেশি পড়াশোনা করা।

স্মার্ট হবার জন্য 

মানুষের স্মার্টনেস প্রকাশ পায় তার কথা-বার্তায় ও আচার ব্যবহারে। যতো বেশি  পড়াশোনা   করবে ততবেশী সুন্দর কথা-বার্তা, রুচিশীল শব্দভাণ্ডার ও জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ, তাই এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে চলতে হলে স্মার্ট হতে হবে আর এই স্মার্ট হওয়ার জন্য পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।

বিনোদন লাভের জন্য 

বিনোদন লাভের জন্য পড়াশোনা  করতে হবে এই কথা অনেকেই যুক্তিযুক্ত মনে করে না। কেননা বর্তমানে মানুষকে বিনোদন দেয়ার জন্য যে মাধ্যমগুলো আছে তাতে পড়াশোনা না করলে পাওয়া যাবে। তবে আমরা যদি সঠিক বিনোদন পেতে চাই তবে আমাদের কে বেছে নিতে হবে কোন বিনোদন আমরা গ্রহণ করব আর এই বেছে নেওয়ার দক্ষতা অর্জনের জন্য আমাদের পড়াশোনার প্রয়োজন পড়বে। কারণ বিনোদন শুধু বিনোদনের জন্য না এটা আমাদের জীবনের জন্য কতটুকু ভালো-মন্দ সেই বিচার শুধু পড়াশোনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে বোঝা যায় ।
যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে:- একটি সফল যোগাযোগের জন্য দক্ষতার প্রয়োজন পড়ে। আমরা যখন শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করব তখন আমরা অন্যের সঙ্গে সুন্দর সাবলীল ভাবে কথাবার্তা বলতে পারব এতে আমাদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ সফল হবে। পাশাপাশি আমরা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ফলে যোগাযোগের দক্ষতা গুলি জেনে সে অনুযায়ী যোগাযোগ করতে পারব।

বোধ শক্তি বাড়াতে

পড়াশোনার মাধ্যমে আমাদের মেধা ও বোধশক্তির বৃদ্ধি পায়। ফলে আমরা কোন পরিবেশে কেমন আচরণ করব? কোথায় কোন আচরণ করা ঠিক নয়, সেটা বুঝতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমাদের মেধা শক্তিকে কাজে লাগাতে পারি।
নিজের মতামতকে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য:-  আমরা সকলেই চাই যে আমাদের মতামত অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। কিন্তু আমাদের মতামত অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য  করতে হলে, আমাদের কথা বলার ও যুক্তি তর্ক উত্থাপন করার দক্ষতা থাকতে হবে। আর এই দক্ষতা অর্জনের জন্য আমাদের প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে। আমাদের যুক্তি-তর্ক দিয়ে বোঝানোর দক্ষতা যখন বেশি থাকবে তখন আমাদের মতামত সহজেই অন্যরা গ্রহণ করবে।

বাচ্চাদের পড়াশোনা 

প্রত্যেকটি শিশুই হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তার সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা শিশুদের অধিকার । শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় তার নিজের পরিবারের কাছ থেকে। বিশেষ করে তার মায়ের কাছ থেকেই শিশুর লেখাপড়ার শুরু হয়ে থাকে। কোন কোন শিশুর পড়ালেখা শেখার শুরুতে নানা রকমের ঝামেলাও পোহাতে হয় অনেক বাবা মায়েদের। অনেক শিশুরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী থাকে না। ফলে শিশুর পড়াশোনা করার ব্যাপারে বাবা-মা অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়েন।  শিশুকে পড়াশোনা করানোর ব্যাপারে বা শেখানোর ব্যাপারে হতাশ না হয়ে কিছুটা কৌশলে কাজ করে শিশুকে পড়ালেখা খুব সহজেই শেখানো  যায়।

আমাদের সমাজে এখনও এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে মা-বাবা দের শিক্ষা খুবই কম। আর এর জন্য তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে পড়তে বসতে ভয় পান। কিন্তু এমন হলে চলবে না, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে সন্তানের প্রথম শিক্ষক তার বাবা- মা। আধুনিক প্রযুক্তি এই যুগ এতটাই উন্নত যে শিশুদের পড়ালেখার জন্য নানা রকম অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হয়েছ।
আমরা আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিশুদের আনন্দময় পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে পারি। এ ধরনের অনেক বই পাওয়া যায়, যেগুলো  বাবা-মা নিজেরা পড়ে সন্তানদেরকে শিক্ষা দিতে পারেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button